নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কাটেনি আতঙ্ক। ত্রিশূলী নদীঘেঁষা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে এখনও নিখোঁজ বহু শ্রমিক। উদ্ধারকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাঁদের সন্ধান পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি রাসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। বিপর্যয়ের সময় সেখানে কাজ করছিলেন অন্তত ৯৩ জন শ্রমিক। বানের পর থেকেই তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্রমিকেরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় নেপালি সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দল অভিযান শুরু করে। দুর্গম এলাকা, কাদা-মাটি ও বরফের কারণে উদ্ধারকাজে তৈরি হচ্ছে একের পর এক বাধা।
😨 ড্রোন ঢুকিয়েও মিলল না প্রাণের সন্ধান
শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবার সুড়ঙ্গের ভেতরে পাঠানো হয় থার্মাল ড্রোন। ড্রোনটি সুড়ঙ্গের একেবারে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছালেও কোনো মানুষের উপস্থিতির সংকেত পাওয়া যায়নি।
এরপরই আরও গভীর হয়েছে রহস্য—
শ্রমিকেরা কোথায়? তাঁরা কি সুড়ঙ্গেই আটকে আছেন, নাকি বানের স্রোতে অন্য কোথাও চলে গেছেন?
নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কোনো উত্তর দিতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা।
📈 বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা
নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৩৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ জনে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে।
নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকেও উদ্ধার ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হচ্ছে।
🇮🇳 পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জনেরও খোঁজ নেই
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পশ্চিমবঙ্গের ৩৯ জন আটকে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও বাকি ৩৭ জনের সন্ধান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ শনাক্ত করতেও তৈরি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালের মর্গে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় অস্থায়ী মর্গের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া দেহগুলোর তথ্য সংরক্ষণ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজও চলছে।
🇨🇳 তিব্বতেও নিখোঁজ বহু মানুষ
একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও। সেখানেও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে নেপাল ও আশপাশের এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন—
সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা শ্রমিকদের কি এখনও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে?
উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও আশার আলো খুঁজছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ।
👉 আপনার কী মনে হয়, সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনও কেউ জীবিত থাকতে পারেন? মতামত কমেন্টে জানান।
🔄 খবরটি শেয়ার করে অন্যদেরও জানিয়ে দিন।
Sriti