পুরুষরা যা দেখে লাল, নারীরা কেন দেখে ১০ ধরনের লাল? বিজ্ঞানের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা!

 আপনার চোখ কি কোটি কোটি লুকানো রং দেখতে পায়? জানুন 'সুপার-ভিশন' অধিকারী নারীর গল্প!



কল্পনা করুন তো, যে ছায়াটাকে আপনি স্রেফ একটা কালো বা ধূসর দাগ ভাবছেন, কেউ একজন তার মধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন শত শত রঙের সমারোহ! রূপকথা কিংবা সাইফাই সিনেমার গল্প মনে হলেও, চিত্রশিল্পী কনসেত্তা আন্তিকোর (Concetta Antico) জীবনটা ঠিক এমনই।

যেভাবে আবিষ্কৃত হলো ‘সুপারপাওয়ার’
শিল্পী ও শিক্ষিকা কনসেত্তা ভেবেছিলেন পুরো পৃথিবীই বুঝি তার মতো করে সবকিছু দেখে। গোলমালটা বাঁধল ক্লাসে ছবি আঁকার সময়। তিনি ছাত্রছাত্রীদের ছায়ার ভেতরের নানা সূক্ষ্ম রঙের শেড ফুটিয়ে তুলতে বলতেন, আর ছাত্রছাত্রীরা হা করে তাকিয়ে থাকত!

পরবর্তীতে নিজের ভুল ভেঙে তিনি যখন এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমাকে আগে বলোনি কেন যে তোমরা এসব রং দেখছ না?" ছাত্রটি উত্তর দিয়েছিল, "আপনি তো আমাদের টিচার! আমরা ভেবেছিলাম আপনি শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথাগুলো বলছেন!"

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: কী এই 'টেট্রাক্রোমেসি'?
পরবর্তীতে জিনগত (Genetic) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, কনসেত্তার মধ্যে রয়েছে এক বিরল বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য—টেট্রাক্রোমেসি (Tetrachromacy)

  • সাধারণ দৃষ্টিশক্তি: আমাদের চোখে সাধারণত তিন ধরনের রং চেনার কোষ বা 'কোণ' (Cones) থাকে (লাল, সবুজ ও নীল)। এর মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ প্রায় ১০ লাখ রঙের পার্থক্য ধরতে পারেন।

  • টেট্রাক্রোম্যাট দৃষ্টিশক্তি: জিনগত পরিব্যক্তির (Genetic Mutation) কারণে যাদের চোখে ৪ নম্বর ‘কোণ’ সক্রিয় থাকে, তারা হয়ে ওঠেন 'টেট্রাক্রোম্যাট'। এরা সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি—অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি রঙের শেড স্পষ্টভাবে দেখতে পান!

কারা পান এই ক্ষমতা?
গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিশেষ জৈবিক সম্ভাবনা মূলত নারীদের শরীরেই বেশি দেখা যায়। এক্স-ক্রোমোজোমের (X-chromosome) বিশেষ মিউটেশনের কারণেই নারীদের চোখে চতুর্থ এই কোণটি বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিদিনের ধূসর জীবনটাকে যারা কোটি রঙের ক্যানভাসে দেখতে পান, তারা প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি।

আপনিও কি টেট্রাক্রোম্যাট?
কখনো কি বন্ধুদের সাথে কোনো কাপড়ের রং বা শেড নিয়ে তর্ক বেঁধেছে, যেখানে আপনি স্পষ্ট একটি আলাদা রং দেখছেন অথচ বাকিরা তা দেখতেই পাচ্ছে না? কমেন্টে জানান আপনার অভিজ্ঞতা! 

 rumi 

Post a Comment

Previous Post Next Post