ছেলেকে দেওয়ার কথা ছিল জিপ! শেষমেশ মা দিলেন ছাগল—এই উপহারেই হইচই, ভাইরাল পুরো গল্প! 😱🐐
ছেলেকে জিপ নয়, ছাগল উপহার দিলেন মা—কেন?
নাইজেরিয়ার ২৩ বছর বয়সী প্রমিজ ওকোরোর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই হাতে একটি ছাগল নিয়ে সেখানে হাজির হন তার মা চিন্নেরে।
প্রথমে বিষয়টি দেখে প্রমিজ নিজেই কিছুটা অবাক হয়ে যান। এমনকি তার মনে হয়েছিল, হয়তো কেউ মজা করে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছে! কিন্তু মুহূর্তেই ভুল ভাঙে—ছাগলটি ছিল তার মায়ের পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার।
প্রমিজের ভাষায়, মায়ের এই ভালোবাসায় তিনি ভীষণ আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ঘটনার পেছনে অবশ্য রয়েছে কয়েক বছরের পুরোনো একটি প্রতিশ্রুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় চিন্নেরে ছেলেকে বলেছিলেন, খারাপ সঙ্গ ও সহিংস গ্যাং থেকে দূরে থেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করবেন।
ছেলে কথা রেখেছেন। পড়াশোনা শেষ করে সাফল্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পার করেছেন। আর মাও নিজের প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি।
গাড়ি কিনে দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও ছেলেকে খালি হাতে ফেরাননি তিনি। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নাইরা খরচ করে কিনে আনেন একটি ছাগল। ইগবো সংস্কৃতিতে বিভিন্ন আনন্দঘন অনুষ্ঠানে ছাগল উপহার দেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে।
সবচেয়ে মজার বিষয়, প্রমিজ ছাগলটিকে জবাই করার কথা ভাবছেন না। বরং এটিকে পোষা প্রাণী হিসেবেই রাখবেন। ভবিষ্যতে আরেকটি স্ত্রী ছাগল কিনে বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে তার। আর নতুন পোষ্যের প্রিয় খাবার? প্রমিজের দাবি—ফ্রাইড রাইস! 🍚🐐
ছেলেকে চমকে দিতে চিন্নেরে গ্রামের বাড়ি থেকে এক ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ছাগলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ছেলের সাফল্য নিয়ে নিজের গর্ব ও ভালোবাসা সবার সামনে প্রকাশ করা।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাগলটিও হয়ে উঠেছে একরকম ‘সেলিব্রিটি’। প্রমিজের সঙ্গে শপিং মলে গেলেও মানুষ সেটির সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করছেন।
প্রমিজ ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য খাতে কাজ করতে চান। আর মায়ের এই ভালোবাসার প্রতিদান একদিন আরও বড় চমক দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
জিপ না হোক, মায়ের ভালোবাসায় পাওয়া ছাগলটিই এখন প্রমিজের কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় উপহার। ❤️🐐
Rubiya

Comments
Post a Comment