মোটরসাইকেলে তরুণীর অচেতন ছবি ভাইরাল, পরে জানা গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা

 

আবদুল্লাহপুর–টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অবশেষে ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। শনিবার টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতের ওই ঘটনার তিনটি ছবি প্রথম ফেসবুকে প্রকাশ করেন মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। ওমরাহ শেষে বিমানবন্দর থেকে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান।
মনোয়ার হোসেনের দাবি, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল্লাহপুর পার হয়ে টঙ্গীর দিকে যাওয়ার সময় তিনি একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন এক যুবক। তাঁর মাঝখানে থাকা তরুণীর পা ঝুলে ছিল। পেছনে থাকা আরেক যুবক তাঁকে শক্তভাবে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীকে খুব কাছ থেকে দেখে মনোয়ারের ধারণা হয়, তিনি হয়তো অচেতন অথবা মারা গেছেন। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।
এরপর সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। শনিবার দুপুরে ওই তরুণীকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডেকে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়।
পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের ওই তরুণী জানান, পারিবারিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বুধবার রাতে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকার একটি বারে যান। সেখানে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর স্বজনরা তাঁকে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে তরুণী বলেন, মোটরসাইকেলে ওঠার সময় পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান ছিল। এরপর কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি পরিষ্কার করতেই তিনি থানায় এসেছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকা থেকে তরুণীকে নিয়ে মোটরসাইকেলটি টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।তবে টঙ্গীতে না গিয়ে পরে তাঁরা মিরপুরে এক বান্ধবীর বাসায় যান।
ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। তরুণীর বক্তব্য নেওয়ার পর তাঁকে টঙ্গীতে থাকা তাঁর বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিতে বড় ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি। তরুণীর বক্তব্য ও পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঘটনাটি মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Mona

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items