শিশুকে মারধরের ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ঘটনাটি আলজেরিয়ার
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এসব ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বিছানার ওপর পাঞ্জাবি ও টুপি পরা এক ব্যক্তি একটি শিশুকে মারধর করছেন এবং একপর্যায়ে তাকে আছড়ে ফেলছেন। ভিডিওটির সঙ্গে থাকা ক্যাপশনে লেখা, ‘একটু ঘুমিয়ে ছিল, হুজুর এসে…।’
ভিডিওটি শেয়ার করে আনোয়ার হোসেন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অতি দ্রুত এদেরকে যদি আইনের আওতায় আনা না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম ইসলাম থেকে অনেক দূরে সরে যাবে।’
একই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের কোনো একটি মাদ্রাসায় ঘটেছে। এসব পোস্টের নিচে অনেক বাংলাদেশি ব্যবহারকারীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মো. বকতিয়ার নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ‘এই আলেম নামের জালেমকে অতিসত্বর আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক।’
অন্যদিকে নাজমুল হাসান নামের আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এসব ভিডিও শেয়ার করার সময় অবশ্যই স্থান ও সময় উল্লেখ করা জরুরি। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।’
তবে ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ভিডিওটির ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়; এটি আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার। একইসঙ্গে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিও কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক নন।
অনুসন্ধানে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই ‘Zero’ নামে একটি আরবি ভাষার লিবিয়ান স্থানীয় বিষয়ভিত্তিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটির দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।
‘Zero’-এর প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশন অনুযায়ী, ঘটনাটি আলজেরিয়ার। ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিকে তাঁর ছেলেকে মারধর করতে দেখা যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, শিশুটি একটি বিড়ালকে আঘাত করেছিল।
এ ছাড়া ভিডিওটি নিয়ে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আন-নাহার ২০২৫ সালের ৪ জুলাই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আলজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের মোস্তাগানেম প্রদেশে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি তাঁর ছোট ছেলেকে একটি বিড়ালকে আঘাত করার কারণে মারধর করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
অতএব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি মাদ্রাসার শিক্ষকের হাতে শিশুকে নির্যাতনের দাবি করে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটির ঘটনাস্থল বাংলাদেশ নয়; বরং আলজেরিয়ার মোস্তাগানেম প্রদেশ। একইভাবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকেও মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
rubaiya