পার্থিব জীবনের এক চিলতে জমি বা একটা চার দেয়ালের ফ্ল্যাটের জন্য মানুষ তার জীবনের সেরা সময়, শরীরের ঘাম আর উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দেয়। বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনি, জমানো টাকা আর ইটের পর ইট সাজিয়ে আমরা যে অট্টালিকা বানাই—সেটাই কি আমাদের শেষ গন্তব্য?
বাস্তবতা হলো, মাটির ওপর গড়ে তোলা এই সুরম্য প্রাসাদ আমাদের ক্ষণস্থায়ী ঠিকানা মাত্র। আজ যে বাড়িতে আমাদের রাজত্ব, কাল সেই বাড়ি ছেড়েই পাড়ি জমাতে হবে অন্তিম গন্তব্যে। অথচ ক্ষণিকের এই ইট-পাথরের ঘরের জন্য আমরা যতটুকু ব্যাকুল, আখেরাতের অনন্ত নীড়ের জন্য কি আমরা ততটাই প্রস্তুত?
সীমানাহীন সুখের হাতছানি: যেখানে পাওয়ার কোনো শেষ নেই
পৃথিবীর সেরা বিলাসবহুল রিসোর্ট কিংবা রাজপ্রাসাদও যেখানে ফ্যাকাশে হয়ে যায়, মহান আল্লাহ তাঁর নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন ঠিক তেমনই এক অবর্ণনীয় জান্নাত।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, জান্নাতের নেয়ামত এমন যা—
কোনো চোখ কোনোদিন দেখেনি
কোনো কান কোনোদিন শোনেনি
কোনো মানুষের কল্পনার সীমানাতেও যা কোনোদিন আসেনি
জান্নাতে প্রবেশ করার পর এক পরম পরম তৃপ্তির ঘোষণা ধ্বনিত হবে। সহিহ মুসলিমের (হাদিস: ২৮৩জান্নাতে প্রবেশ করার পর এক পরম পরম তৃপ্তির ঘোষণা ধ্বনিত হবে। সহিহ মুসলিমের (হাদিস: ২৮৩৭) বর্ণনা অনুযায়ী, একজন ঘোষক সেখানে ঘোষণা করতে থাকবেন:
“তোমাদের জন্য সুসংবাদ! তোমরা এখন থেকে চিরকাল সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না। তোমরা চিরকাল পরম নিয়ামতের মাঝে থাকবে, কষ্ট বা দুঃখ কখনো তোমাদের স্পর্শ করবে না।”
কেমন হবে সেই অনাবিল নীড়?
পবিত্র কোরআনে সেই চিরস্থায়ী আলিশান আবাসনের চিত্র তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে সজীব ও প্রফুল্ল। তারা তাদের কর্মের সাফল্যে সন্তুষ্ট। তারা থাকবে সুউচ্চ জান্নাতে, যেখানে শুনবে না কোনো অসার কথা। সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝরনাধারা, সুউচ্চ আসনসমূহ, সুবিন্যস্ত পানপাত্র, সারি সারি বালিশ এবং বিছানো গালিচাসমূহ।
” (সুরা গাশি য়া, আয়াত: ৮-১৬)urmi